ঢাবিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ৩৬ ছাত্রদল নেতাকে সিট দেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশিত: ২০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৮:০৩:৩৭

ঢাবিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ৩৬ ছাত্রদল নেতাকে সিট দেওয়ার অভিযোগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ছাত্রদল ও যুবদলের অন্তত ৩৬ জন নেতাকর্মীকে ‘বিশেষ বিবেচনায়’ হলের সিট বরাদ্দ দেওয়ায় হয়েছে। এ নিয়ে আবাসন নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে নতুন করে বিতর্কের মুখে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

অন্যদিকে সদ্য ভর্তি হওয়া ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা এখনো আবাসন সুবিধা না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, আবাসন সংকট নিরসনে স্পষ্ট নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করে এই সিট বণ্টন করা হয়েছে, যা আবাসন সংকটকে আরও তীব্রতর করে তুলছে।

বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্তদের তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ফার্মেসি, পদার্থবিজ্ঞান, আইএসআরটি, ইনফরমেশন সায়েন্স, প্রাণিবিদ্যা, পরিসংখ্যানসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা এতে রয়েছেন, যাদের সেশন ২০০৮-০৯ থেকে শুরু করে ২০১৬-১৭ পর্যন্ত বিস্তৃত। এমনকি কিছু শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন আগে শিক্ষাজীবন শেষ করার কথা থাকলেও পুনরায় বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় হলে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, “যেখানে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা সিট না পেয়ে ঢাকায় এসে কোথায় থাকবে তা নিয়ে দিশেহারা, সেখানে এত পুরোনো সেশনের শিক্ষার্থীদের সিট দেওয়া সম্পূর্ণ অন্যায্য।”

এমন পরিস্থিতিতে আবাসন সংকট নিরসনের দাবিতে আজ সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুর ১২টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদের নেতাকর্মীরা।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শতাধিক শিক্ষার্থী - 'সিট পায় আদু ভাই, নবীনরা রাস্তায় ঘুমায়', 'সিট আমার অধিকার, কেড়ে নেওয়ার সাধ্য কার', 'প্রথম বর্ষে বৈধ সিট দিতে হবে দিতে হবে', 'অবৈধ সিট বন্টন মানি না মানবো না' ইত্যাদি স্লোগান দেন।

বিজয় একাত্তর হলের ভিপি হাসানুল বান্না বলেন, “৩৬ জন ছাত্রদল-যুবদলের নেতাকর্মী সিট পেয়েছে, অথচ প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা এখনো সিট পায়নি। কোন ভিত্তিতে তাদের সিট দেওয়া হয়েছে, তার কোনো সদ্যুত্তর নেই। এটা প্রশাসনের ব্যর্থতা।”

নবীন শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসন করতে প্রশাসনকে এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম দেয় ডাকসু। রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে বিক্ষোভ শেষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে আলাপকালে বিষয়টি তুলে ধরেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ।

তিনি বলেন, “তিন সপ্তাহ আগে উপাচার্যের কাছ থেকে আমরা আশ্বাস পেয়েছিলাম যে দ্রুত সিট সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। কোনো কমিটি হয়নি, কোনো দৃশ্যমান পরিকল্পনাও নেই।”

তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “আগামী শনিবারের মধ্যে যেসব শিক্ষার্থীকে সিট দেওয়া সম্ভব হবে না, তাদের জন্য আবাসন ভাতা বা উপবৃত্তির ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জনে যাবে।”

প্রজন্মনিউজ২৪

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ