এমপি হিসেবে প্রত্যাশিত কাজ না পাওয়ার অভিযোগ মাহমুদা মিতুর

প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৩:৫৯:১৩

এমপি হিসেবে প্রত্যাশিত কাজ না পাওয়ার অভিযোগ মাহমুদা মিতুর

প্রজন্ম ডেস্ক: সংসদ সদস্য হিসেবে নিজের এলাকার উন্নয়নে যতটা কাজ করার সুযোগ পাওয়ার কথা ছিল, ততটা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু।

রোববার (৪ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন।

মাহমুদা মিতু লেখেন, নির্বাচনের আগে রুমিন ফারহানা একটি ছোট দৈর্ঘ্যের রাস্তার ছবি দিয়েছিলেন। সংরক্ষিত সংসদ সদস্যদের মর্যাদা সমান হলেও তাদের কাজের পরিধি কতটা সীমিত, বিষয়টি তখন তাকে কিছুটা চিন্তিত করেছিল। পাঁচ বছরে যদি একটি ইটের রাস্তা করার মতো কাজই থাকে, তাহলে মানুষের জন্য বড় পরিসরে কাজ করবেন কীভাবে- এমন প্রশ্ন তার মনে এসেছিল।

সংসদ সদস্যদের মূল দায়িত্ব আইন প্রণয়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা রাখা উল্লেখ করে মাহমুদা মিতু বলেন, এলাকার উন্নয়নের জন্য যে বরাদ্দ আসে, তার মাধ্যমে মানুষের জন্য সরাসরি কাজ করার সুযোগ থাকে। এসব বিবেচনা করেই তিনি সরাসরি নির্বাচনের স্বপ্ন দেখেছিলেন।

তিনি বলেন, মাঠে-ঘাটে মানুষের মধ্যে গিয়ে তাদের কথা শোনা এবং পাশে থাকা তার সবচেয়ে পছন্দের কাজ। তবে শেষ পর্যন্ত যা হয়েছে, তা আল্লাহর পরিকল্পনা হিসেবেই দেখছেন তিনি।

মাহমুদা মিতুর অভিযোগ, বিরোধী দলের সংরক্ষিত সংসদ সদস্য হিসেবে তার এলাকার জন্য যে পরিমাণ কাজ করার সুযোগ পাওয়ার কথা ছিল, তা তিনি পাননি। সরকার তাকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বঞ্চিত করেছে এবং এর ফলে তার এলাকার মানুষও তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এলাকায় খুব সামান্য কাবিখা ও কাবিটা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ওই বরাদ্দ দুই উপজেলায় ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দের পরিমাণ কম হলেও এর এক পয়সাও এদিক-সেদিক হবে না।

এলাকার সবচেয়ে খারাপ রাস্তাগুলো তিনি নিজে গিয়ে দেখেছেন জানিয়ে মাহমুদা মিতু বলেন, সামনে আরও বরাদ্দ এলে ধাপে ধাপে এসব রাস্তার উন্নয়নে কাজ করা হবে।

দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে বরাদ্দের প্রকৃত হকদারকে তার প্রাপ্য দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। তার ভাষায়, তার এলাকার কোনো বিএনপি কর্মী বা সমর্থক যদি কোনো বরাদ্দের প্রকৃত হকদার হন, তাকেও বঞ্চিত করা হবে না।

মাহমুদা মিতু বলেন, রাজনীতির একটি বড় দিক হলো মানুষের হক নিশ্চিত করা। কোনো কিছু বণ্টনের সময় নিজের পছন্দের মানুষকে বেশি দেওয়া, কারও প্রাপ্য আটকে রাখা কিংবা দুর্বল মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার মতো কাজ তিনি করতে চান না এবং এসবকে প্রশ্রয়ও দিতে চান না। তবে ভুলত্রুটি হতে পারে এবং নিজেকে সংশোধনের জন্য তিনি সব সময় প্রস্তুত।

চিকিৎসা পেশা ছেড়ে জুলাইয়ের আন্দোলনে রক্তপাতের পর রাজনীতিতে এসেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের জন্য কাজ করার স্বপ্ন নিয়েই তার রাজনীতিতে আসা। নিজে অন্যায় করবেন না এবং কেউ অন্যায় করলে সহজে ছেড়ে দেবেন না।

নিজের এলাকার উন্নয়ন পরিস্থিতি তুলে ধরে মাহমুদা মিতু বলেন, তার এলাকা দেশের সবচেয়ে অনুন্নত ১০টি এলাকার মধ্যে একটি। সেখানকার রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই খারাপ। মানুষের দুর্ভোগ না দেখলে তা বিশ্বাস করা কঠিন।

তিনি আরও বলেন, এলাকার সব সংসদ সদস্য দলমতের বাইরে গিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারলে আরও বেশি উন্নয়ন করা সম্ভব হতো।  তবে এ জন্য রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার বাইরে গিয়ে বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করার মানসিকতা প্রয়োজন।
 

এ সম্পর্কিত খবর

এমপি হিসেবে প্রত্যাশিত কাজ না পাওয়ার অভিযোগ মাহমুদা মিতুর

ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেবে সরকার : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

দেশব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সপ্তাহ’ কর্মসূচির উদ্বোধন জামায়াত আমীরের

গুজব ও উসকানি নিয়ে সতর্ক থাকতে পূজা উদযাপন পরিষদকে এসপি মাসুদের আহ্বান 

আমলাতন্ত্র সংস্কারবিরোধী, আমলারা রাজনৈতিক প্রভুদের অধী‌নে চল‌তে চায়

এনসিপি কার্যালয় পরিদর্শনে সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট 

সেপ্টেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪২৩ জন

শাহজালালে দুই বিমানকর্মীর জুতায় মিলল ৯ কেজি স্বর্ণ

যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণের গতি বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতিই গড়ে তুলতে পারে শক্তিশালী বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ