জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো অপরিণামদর্শী : ক্যাব

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৩:০৭:১৯

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো অপরিণামদর্শী : ক্যাব

প্রজন্ম ডেস্ক: জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে অপরিণামদর্শী ও সুবিবেচনাপ্রসূত নয় বলে মন্তব্য করেছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।

তিনি বলেন, হঠাৎ করে রোববার রাত ১০টার দিকে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এ ঘোষণার পর মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কারণ জ্বালানি তেলের দামের সঙ্গে মানুষের জীবন-জীবিকার প্রায় সব বিষয়ই আন্তঃসম্পর্কিত।

নাজের হোসাইন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে শিল্প-কলকারখানা, অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বাসাবাড়িসহ সব জায়গাতেই খরচ বাড়বে। গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহনের খরচও বাড়বে। এসব খরচ বাড়লে শেষ পর্যন্ত বাড়তি টাকাটা ভোক্তার পকেট থেকেই যাবে। এতে মানুষের খরচের পাল্লা ভারী হবে। একইসঙ্গে অন্যান্য পণ্য ও সেবার সঙ্গে জ্বালানি তেলের সম্পর্ক থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও আরেক দফা বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, ইতঃপূর্বে ব্যবসায়ীরা ইরান-সংকটসহ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে পণ্যের দাম বাড়িয়েছেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম দফায় দফায় বাড়ার কারণ দেখিয়েও তারা বিভিন্ন সময়ে দাম বাড়িয়েছেন। এবারও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে তারা আরেক দফা দাম বাড়াবেন। এরইমধ্যে চিনি, সয়াবিন তেল, ময়দা, আটা, গরুর দুধসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। এখন এসব পণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি খাতে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে তারা সরব ছিলেন। এসব অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং অপচয় বন্ধ করতে পারলে বিকল্প পথ বের করা সম্ভব হতো।

তিনি বলেন, সরকার এখন বৈশ্বিক সংকটের কথা বলছে। কিন্তু বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) দীর্ঘদিন ধরে লাভ করেছে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা দিয়েছে। সেই অর্থের একটি অংশ পড়ে ছিল। সংকটকালীন সময়ে সেই লাভের অর্থ ব্যবহার করা যেত কি না এবং বিকল্প কোনো পথ বের করা যেত কি না, সেটিও বিবেচনা করা প্রয়োজন ছিল।

নাজের হোসাইন আরও বলেন, সরকার নবম পে-স্কেল ঘোষণা করেছে। এই পে-স্কেল ঘোষণার পর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরেক দফা বেড়েছে এবং এতে সরকারের বিপুল পরিমাণ ব্যয় করতে হচ্ছে। ১৮ কোটি বা ২০ কোটি মানুষের স্বার্থ বিবেচনা করে সরকার সিদ্ধান্তগুলো নিলে সেটি সবার জন্য ভালো হবে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে বিপিসি দাম সমন্বয় করবে, আবার আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে দাম কমানোও উচিত। কিন্তু বিপিসির ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা তারা দেখেননি। গতকাল দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর সোমবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অনেক কমেছে এবং আগামী কয়েক দিনে তা আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে। তাহলে সরকার যে সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করলেন, এটা অপরিণামদর্শী, এটা সুবিবেচনাপ্রসূত হয়নি।

এ সম্পর্কিত খবর

শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতিই গড়ে তুলতে পারে শক্তিশালী বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী 

হামের উপসর্গে আরও ৮ জনের মৃত্যু

মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে আখতারুজ্জামানকে মুক্তি দিন : গোলাম পরওয়ার

শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে: দীনেশ ত্রিবেদী

‘পুলিশের গুলি খাবো, তবু হেলমেট পরবো না’

মানুষের পকেট কেটে নেওয়া বিএনপি দেশকে ধ্বংস করে দিচ্ছে

লক্ষ্মীপুরে কিশোর অপরাধ দমনে অভিযান, ৩ দিনে আটক ৫৪৯

 দেশে ভূমিকম্প পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৪১ পয়েন্টে সরঞ্জাম, ১০০ স্টেশন প্রস্তুত

ঢাকায় ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’, অংশ নেবেন ১০০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসছে টানা ৯ দিনের ছুটি

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ