রাবিতে তিন বছর পর রঙে-রূপে ফিরছে বৈশাখ

প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০৭:৫৯:০১

রাবিতে তিন বছর পর রঙে-রূপে ফিরছে বৈশাখ

তিন বছর পর বাংলা নববর্ষকে ঘিরে আবারও প্রাণ ফিরে পাচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাস। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বৈশাখী উৎসবের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। দিন-রাত পরিশ্রমে তৈরি হচ্ছে বর্ণিল মোটিফ, যা এবারের শোভাযাত্রাকে করে তুলবে আরও আকর্ষণীয় ও তাৎপর্যময়।

বৈশাখী শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে চারুকলা অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তৈরি করছেন নানা নকশা ও প্রতীকী মোটিফ।

এবারের শোভাযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ঘোড়া ও ঘোড়ার গাড়ির মোটিফ, যা শক্তি, গতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। 

পাশাপাশি জাতীয় মাছ ইলিশ, শৈশবের স্মৃতিবাহী টমটম গাড়ি এবং প্রাচীন রাজা-বাদশা ও ঐতিহাসিক চরিত্রের মুখোশ স্থান পাচ্ছে এবারের আয়োজনে। বিশ্ব পরিস্থিতি তুলে ধরতে একটি বিশেষ প্রদর্শনীর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন একাডেমিক ভবন প্রাঙ্গণেও ব্যস্ত সময় পার করছেন। রং-তুলির ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে প্রাণ পাচ্ছে এসব শিল্পকর্ম, যা শোভাযাত্রার দিন ক্যাম্পাসজুড়ে ছড়িয়ে দেবে উৎসবের আমেজ।

এদিকে কেন্দ্রীয়ভাবে নির্ধারিত প্রতিপাদ্য না থাকায় এবং সম্ভাব্য বিতর্ক এড়াতে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এবারের আয়োজন ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামেই অনুষ্ঠিত হবে। জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সময় ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংযম আনা হয়েছে এবং সন্ধ্যার মধ্যেই সকল আয়োজন শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, এবারের বৈশাখী শোভাযাত্রা উপভোগ করতে রাজশাহী শহরের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও আশপাশের অঞ্চল থেকে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্যাম্পাসে ভিড় জমাবেন। শোভাযাত্রার পাশাপাশি থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের সর্বজনীন উৎসব সমাজে সম্প্রীতি বৃদ্ধি ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

রাবির চারুকলা অনুষদের মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের শিক্ষার্থী নাসির হোসেন বলেন, গত বছর পহেলা বৈশাখ রমজান মাসে পড়ায় বড় পরিসরে আয়োজন সম্ভব হয়নি। তবে এবছর নতুন উদ্যমে কাজ চলছে।

চারুকলা অনুষদের অধ্যাপক ড. আরিফুল ইসলাম জানান, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির প্রতিফলন ঘটাতেই এমন মোটিফ তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে মানুষ আবার পুরোনো বাহনের দিকে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রাচীন বাহন হিসেবে ঘোড়া ও ঘোড়ার গাড়িকে সেই বাস্তবতার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

অর্থায়নের বিষয়ে চারুকলা অনুষদের আরেক অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবীর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত শ্রম ও অর্থায়নেই এই আয়োজন বাস্তবায়িত হচ্ছে। সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা বজায় রাখতে কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের স্পন্সর নেওয়া হয়নি।

প্রজন্মনিউজ২৪

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ